সেন্ট মার্টিনে দৈনিক পর্যটক সীমা সাড়ে ৩ হাজার
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেন্ট মার্টিনে দৈনিক পর্যটকের সীমা সাড়ে ৩ হাজার, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দৈনিক পর্যটক যাতায়াতের সীমা বাড়িয়ে গড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ নির্ধারণ করেছে সরকার। আগে দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক যাওয়ার সীমা ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটকেরা যাতায়াত করতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেয়। গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

রাতযাপনে থাকছে নির্দিষ্ট সময়সীমা

নতুন মৌসুমে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকেরা দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে নভেম্বর মাসে রাতযাপনের অনুমতি নেই; এ সময় শুধু দিনের ভ্রমণ করা যাবে। প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে।

পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও অনুমোদন বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না।

পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ

সেন্ট মার্টিন দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা। দ্বীপটির প্রবাল, সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে দ্বীপে সুপেয় পানির চাহিদা, পয়োবর্জ্য এবং প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের মোড়কের মতো বর্জ্যের পরিমাণও বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত বর্জ্য সংগ্রহ, শোধন ও অপসারণের ব্যবস্থা না থাকলে এসব দূষণ দ্বীপের সৈকত ও সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা বিবেচনায় দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা আরও কম রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সুপেয় পানির সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা না বাড়িয়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ালে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ফি ও নজরদারির প্রশ্ন

প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ফি থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দ্বীপে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ আয়োজন এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডের ওপর আগের বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। কেয়াবন, প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় এসব নিয়ম কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নজরদারি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে নতুন মৌসুমে সেন্ট মার্টিনের পর্যটন ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা।

সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।