বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে দুই প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাপান-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা এই ঐকমত্যের কথা জানান। এ সময় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এর আগে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এরপর বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়েছিল। এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করেই দুই দেশের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। গত পাঁচ দশকে জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মূল্যবান অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে এবং এই বন্ধুত্বের প্রতি বাংলাদেশ গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি। আজ আমাদের এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে শক্তি, আইসিটি, বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং গভীর সমুদ্র বন্দর খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা দুই দেশের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। তিনি আরও বলেন, ​আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সবসময়ই জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উভয় দেশের সরকারপ্রধান শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।