জাপানে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন সানায়ে তাকাইচি
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন তাকাইচি

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই শীর্ষ বৈঠকটি আয়োজিত হয়েছে। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পর জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১ টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপানের টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা।

গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের সরকার প্রধান পাশাপাশি অবস্থান করেন। আনুষ্ঠানিকতার এই পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশের সময় দর্শনার্থী বইতে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। এর পরপরই দুই নেতা একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে দুপুরের দিকে আলোচনার ফলাফল নিয়ে যৌথ ব্রিফিং এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে দুই নেতা শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে কথা রয়েছে। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে আলোচনার ফলাফল নিয়ে দুই নেতা যৌথ ব্রিফিং করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।

চলতি সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশেপাশের সড়কগুলো বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সফরের পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছানোর পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনে তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তারো আসোর সঙ্গে ২০০৬ সালের স্মৃতিচারণ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠকে ইপিএ বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও আইসিটি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। এছাড়া একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর; এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন এবং সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক ভ্রমণ করেছিলেন। কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। প্রতিনিধিদলে আরও আছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং মো. তারেক রহমান। রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।