প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী ও মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ও দলের কেউ এতে সম্পৃক্ত কি না, তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) ও নূরুল ইসলাম বুলবুলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে পিরোজপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। স্থানীয় শাখাগুলোকে তদন্ত কমিটির কাজে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার মানিক পশারী মৃত্যুবরণ করার পর তার দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাকে ওই এলাকায় দাফন না করার দাবি তোলেন। এ সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জামায়াত কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন মহল বিষয়টির সমালোচনা করে।
ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও এসেছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহিরুল হক দাবি করেছেন, দাফনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি, আবার কোনো সহায়তাও তারা করেননি। তবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন যে, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা নন, তাই গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। উল্লেখ্য, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বিরুদ্ধে দেওয়া মামলার সাক্ষী হিসেবে মানিক পশারীর ভূমিকা স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে আলোচিত ছিল।



