ভারতের উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অমিত শাহ। সম্প্রতি রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) ভালো ফল এবং দলীয় অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে তাঁর এ আহ্বানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লক্ষ্ণৌতে দলীয় নেতা-কর্মীদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দূরে রেখে দলের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
শাহ বলেন, সবার প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে দলের ভেতরে হতাশা বা ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। তবে দলের স্বার্থে এসব মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজেপি ছয়টি এবং প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে বিজেপি ছয়টি, এসপি তিনটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দুটি আসন পেয়েছিলেন। এবারের ফলে এসপি দুটি আসন বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে স্নাতক ও শিক্ষক প্রতিনিধিত্বকারী আসনগুলোতে এসপির সাফল্য রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। দলটি পাঁচটি স্নাতক আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে। লক্ষ্ণৌ ও বারাণসীর স্নাতক আসন বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। তবে পুরো নির্বাচনে বিজেপি ছয়টি আসন ধরে রেখেছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্যের পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে পারলে রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে বিজেপিশাসিত উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে, এসপি সভাপতি অখিলেশ যাদব বিজেপির এই প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও বিজেপি কেন উত্তরপ্রদেশে ইউসিসি বাস্তবায়ন করতে পারেনি, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। শুধু বক্তৃতা দিয়ে নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিকদের অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নিষাদ পার্টি, সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় লোকদলের মতো শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ও আসন সমঝোতা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। দলীয় অসন্তোষ দূর করা, শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিরোধীদের শক্তিশালী অবস্থানের মোকাবিলা—এই তিন বিষয় বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
8



