জার্মানির ৩৪ শহরে জেন-জি বিক্ষোভ, ১ লাখ ৬০ হাজারের প্রত্যাশা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জার্মানির ৩৪ শহরে জেন-জি বিক্ষোভ, ১ লাখ ৬০ হাজার অংশগ্রহণের প্রত্যাশা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার জার্মানির রাজপথেও নামছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির ৩৪টি শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

‘জেন-জি রেগেল্ট’ (Gen Z regelt) নামের একটি আন্দোলনকারী সংগঠনের উদ্যোগে বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ বিভিন্ন শহরে এই কর্মসূচি পালিত হবে। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা—আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।

আয়োজকদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের চাপ তরুণদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। তাঁদের দাবি, তরুণদের প্রয়োজন ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

হ্যালোইন উৎসবের দিনেই বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জার্মান কর্তৃপক্ষের ধারণা, অধিকাংশ সমাবেশ শান্তিপূর্ণ থাকবে। তবে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

বার্লিনের কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় আগেভাগে দোকান বন্ধ রাখা এবং জানালা-দরজা সুরক্ষিত করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা জার্মান কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভের নামে লুটপাট, সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের ওপর হামলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার বজায় রেখেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সী তরুণ স্টিভের। তিনি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সরকারের প্রতি তরুণদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তরুণদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে (BSK) আন্দোলনটির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

জার্মানির এই আন্দোলন ইউরোপের অন্যান্য দেশের তরুণদের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে আয়োজকদের ঘোষিত অংশগ্রহণের সংখ্যা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হবে এবং কর্মসূচিগুলো কতটা শান্তিপূর্ণ থাকবে, তা শনিবারের সমাবেশের পরই স্পষ্ট হবে।