ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পরপরই দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও এবারের নির্বাচনে লুলার কাছে শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হন। তার দল আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় মেনে নিলেও ফ্লাভিও নিজে তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অথচ তার দেশত্যাগের ওপর আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচারিক তদন্ত চলছে। সোমবার এই ডানপন্থি সিনেটর অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে চলেছেন। সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও তার সঠিক অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রদান করা হবে, তবে তার ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তারা। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

ইতালীয় নাগরিকত্ব ও দেশত্যাগের রহস্য

ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তার দেশত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। তবে ইতালির সংসদীয় নথিতে ২০২৩ সাল থেকেই ফ্লাভিওর ইতালীয় নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তার নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক রজেরিও মরিনহো এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মরিনহো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ব্রাসিলিয়ায় এক খুদে বার্তায় ফ্লাভিও তাকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন। এদিকে, ফ্লাভিওর দেশত্যাগকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে লুকিয়ে চলে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে।’ মরিনহো বলেন, ‘আজ সকালে (মঙ্গলবার) তার কাছ থেকে আমি একটি খুদে বার্তা পেয়েছি। সেখানে তিনি বলেছেন, কিছু সময় অপেক্ষা করবেন, এরপর আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে তিনি কোথায় অবতরণ করেছেন, তা জানা যায়নি। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন লুলা।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

সোমবার ফ্লাভিও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওবার্তায় দাবি করেন, তার দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না।

লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী এই সিনেটর আরও জানান, তিনি বামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে কাজ করবেন। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে লুলা ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ফ্লাভিও। তার দাবি, পরিবহন সমস্যার কারণে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ব্রাজিলের এই নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্লাভিওর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক আইনপ্রণেতা, গত সপ্তাহেই একটি পডকাস্টে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, পরাজিত হলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কারণে তিনি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো। তিনিও কখনোই পরাজয় স্বীকার করেননি এবং লুলার শপথের আগের দিন দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ফ্লাভিও প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি তার বাবাকে মুক্ত করবেন, তবে সেই আশার বিপরীতে তিনি নিজেই এখন সংকটে পড়েছেন।

  • ফ্লাভিও বলসোনারো নির্বাচনের ফলাফল মানতে অস্বীকার করে লুলার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
  • নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ফলে ফ্লাভিও তার সংসদীয় দায়মুক্তি হারাতে চলেছেন, যা তাকে আইনের মুখোমুখি করেছে।
  • ২০২২ সালে একইভাবে লুলার কাছে পরাজিত হয়ে তার বাবা জায়ের বলসোনারোও দেশ ছেড়েছিলেন।
  • যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসা সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।