ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের স্থলভাগে প্রবেশ, বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিমি
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডব: ১৫০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ল উপকূলে

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আছড়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে কাকিনাড়ার নিকটবর্তী ইয়ানাম উপকূল দিয়ে ঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের (ল্যান্ডফল) প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ল্যান্ডফলের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। রাতে কলকাতায-সহ অন্য জেলাতেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

ইয়ানামের কাছে একাধিক গাছ উপড়ে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যা সরাতে কাজ করছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দুর্যোগের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। প্রায় দুই হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের বিশেষ চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল ও ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও সাত থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কলকাতা এবং আশপাশের জেলাগুলোতেও ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির রেশ থাকবে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার জন্য। পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবারও পাঁচ পার্বত্য জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সতর্কবার্তা বহাল থাকবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।