পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—এমন মন্তব্যের ঘটনায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে তারা জানিয়েছেন, আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিভ্রান্তিকর। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শেষে তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। গতকাল পৃথক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। কারণ, আইজিপি এসব বক্তব্যের কোনোটিই নিজের অবস্থান হিসেবে ধরে রাখেননি, বরং সেখান থেকে সরে এসেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আইজিপি হয়তো সরল বিশ্বাসে বা আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে গিয়ে অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন। তবে তার এই বক্তব্য সঠিক হয়নি। সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার সমর্থন করে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে অপরাধ দমন করা সম্ভব। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কথা বলা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। যদি স্লিপ অব টাং করে বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, সস্তা ক্রেডিট নেয়ার জন্য কথা বললে দেশের ক্ষতি হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত আসবে।
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের বিনিময়ে মানুষ একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে এমন বক্তব্য উদ্বেগের জন্ম দেয়। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান হয়ে এ ধরনের কথা বলা বিব্রতকর। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসানের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য কাম্য নয়। যে ১৭ বছর আমরা এই ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যা, রক্তঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে ৫ই আগস্ট পেলাম। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা। সবার প্রত্যাশা একটি মানবিক বাংলাদেশ- সেখানে একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে আপনার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে দেখছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পরবর্তী সময়ে একটি বিবৃতি দিয়ে আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝানো তার উদ্দেশ্য ছিল না। তাই বিষয়টি নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন।



