কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ায় ১৫ দিনের ব্যবধানে লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্সে মিলল ৮ লাখ টাকা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়ির দুটি দানবাক্স মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে পুনরায় খোলা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে এই অর্থ উদ্ধার করা হয়। লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। গণনা শেষে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা জমা পাওয়া যায়। এই অর্থ নিয়ম অনুযায়ী লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। গতকালের টাকাও একই হিসাবে জমা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়েছিল, যেখানে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া যায়। সাধারণত লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসবকে কেন্দ্র করে বছরে চারবার আখড়াবাড়ির দানবাক্স খোলা হয়। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাত দিন পর গতকাল সোমবার পুনরায় বাক্সগুলো খোলা হলো। উল্লেখ্য, গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং তিরোধানের তিন দিন পর ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা দানবাক্স থেকে পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমবার প্রকাশ্যে খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, সাড়ে ৩ ঘণ্টা চলে গণনা।

আখড়াবাড়িতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সারা বছরই মাজার পরিদর্শনে এসে মানত বা দান হিসেবে অর্থ দিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার প্রক্রিয়াটি পর্দার আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি এটি প্রকাশ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও লালন একাডেমির সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা প্রশাসন ও একাডেমি কার্যালয়ের অন্তত ১৫ জন কর্মীর সহায়তায় পুরো গণনা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এসময় কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লালনের তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজন হয়।

আখড়াবাড়ির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত ফকির ও সাধুরা। তাদের একজন, কল্পনা বলেন, ‘আমরা চাই দানবাক্সের জমানো অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হোক এবং এর মাধ্যমে আখড়াবাড়ির উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক।’ স্বচ্ছতার এই নতুন ধারায় স্থানীয় সাধু ও ভক্তদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, কারণ আগে বছরে চারবার বাক্স খোলা হলেও তা কখনোই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হতো না। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ফকির, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন।