ইসলামে সামান্য সদকার ফজিলত: জাহান্নাম থেকে বাঁচার আমল জানুন
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সামান্য সদকাও হতে পারে জাহান্নাম থেকে মুক্তির উসিলা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। জাহান্নামের অগ্নিশিখা থেকে রক্ষা পেতে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন নেই; বরং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য দানই নেকি অর্জনের মাধ্যম হতে পারে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সদকার ফজিলত বর্ণনা করে মানুষকে স্বাবলম্বিতা অনুযায়ী আল্লাহর পথে ব্যয়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, দানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও উপকারভোগীর মর্যাদা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আল্লাহর রাসুল (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও তা অর্ধেক খেজুর দান করার মাধ্যমে হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৬)। এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, কম পরিমাণ দানকে কখনোই তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। মানুষের আর্থিক সক্ষমতায় তারতম্য থাকলেও সহিষ্ণু ও আন্তরিক নিয়তে করা ক্ষুদ্র সদকাও পরকালে বড় সওয়াবের কারণ হতে পারে। জুমার দিনে বেশি সওয়াবের জন্য করুন এই আমল।

অনেকে মনে করেন প্রচুর ধন-সম্পদ না থাকলে দান করা সম্ভব নয়, যা একটি ভুল ধারণা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সম্পদ প্রাচুর্যের চেয়ে সদিচ্ছা মুখ্য। নিজের অল্প সাধ্য দিয়ে ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, অভাবী মানুষকে সাহায্য করা কিংবা বিপদে পাশে দাঁড়ানো—সবই কল্যাণের কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়।

পবিত্র কোরআনে দান-সদকার সুফল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেবেন।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৯)। এই আয়াতে আল্লাহর পথে খরচের স্পষ্ট উৎসাহ রয়েছে। তবে সওয়াব পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণের চেয়ে নিয়তের বিশুদ্ধতা, আন্তরিকতা এবং উপার্জিত অর্থ হালাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দান করার সময় লোকদেখানো মনোভাব পরিহার করা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৭১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য অপেক্ষা গোপনে অভাবীদের দান করা অধিক উত্তম। দানগ্রহীতার আত্মসম্মান রক্ষা ও পরিস্থিতির বিচারে গোপনে সদকা করার মধ্যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। মসজিদ ধ্বংস করতে এসে মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ।

গোপনে দানকারীদের রাসুল (সা.) বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে যে সাত শ্রেণির মানুষ স্থান পাবেন, তাঁদের মধ্যে একজন হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এত গোপনে দান করেন যে তাঁর ডান হাত কী ব্যয় করছে তা বাম হাত জানতে পারে না। মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির ইন্তেকাল।

অর্থকড়ি ছাড়াও সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সদকার সওয়াব অর্জন করা যায়। রাস্তা থেকে ক্ষতিকর বস্তু সরানো, অসহায়কে পথ দেখানো বা মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলাও সওয়াবের কাজ। তবে আর্থিক সদকা ও অন্যান্য সাধারণ আমলের ফজিলত নিজ নিজ স্থানে আলাদা।

সব ধরনের সদকার মূল উদ্দেশ্য হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। লোকসম্মুখের প্রশংসা কিংবা সামাজিক সুনাম অর্জনের ইচ্ছায় দান করলে তা কবুল হয় না। একইসঙ্গে পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করে বা অন্যের পাওনা আটকে রেখে দান করা অনুচিত। মূলতঃ পরকালে মুক্তি পেতে আল্লাহর রহমত আবশ্যক, তাই দান-সদকার পাশাপাশি ফরজ ইবাদত, তওবা ও বান্দার হক আদায়ের প্রতি পূর্ণ নজর দেওয়া দরকার। জাহান্নাম থেকে মুক্তি আল্লাহর রহমতের ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, ইসলামি সংস্কৃতির নানা ঘটনার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের নানা খবর প্রতিনিয়ত আলোচনা তৈরি করে। যেমন এক বছরে ৩টি ঈদ ও ২টি হজ পালনের বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব, আবার ২০২৭ সালের হজে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধের কারণে অনেকে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য সময়ও প্রকাশ করা হয়েছে। এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব।