সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে জিয়াউল ও রোকেয়ার সংশ্লিষ্টতার তথ্য
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাগর-রুনি রহস্য: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস টাস্কফোর্সের

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি নিহতের ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রসিকিউশন আদালতকে জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় সাবেক বরখাস্ত সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সেটা হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ই। পরে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো। এই চিঠিটা আমি আপনাকে বলি যে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ কথাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন। আদালতের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদনের এই অংশটুকু পড়ে শুনিয়েছি।’।

মঙ্গলবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আরও ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেছেন। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল টাস্কফোর্স। একই সাথে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ এপ্রিল তারিখ ধার্য করা হয়েছে এবং সেদিন টাস্কফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এই তথ্য দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টাস্কফোর্সের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সমন্বিতভাবে এই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনটিএমসির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত জব্দ করেছে। এর মধ্যে জিও লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টাস্কফোর্স ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিষয়টির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেদিন উপস্থিত হতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, জিয়াউল আহসানের সহকারী একজন র‌্যাব সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে জিয়াউল আহসান ও এক মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে সংগৃহীত সব তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরই মধ্যে পিবিআই তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সাথে দেখা করে আলামত চেয়ে চিঠিও দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কী আলামত আছে তা চেয়েছেন এবং তারা একটা চিঠিও দিয়েছেন।

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে টাস্কফোর্স ৯০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করেছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে আরও অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই মামলার নতুন তদন্তভার গ্রহণ করে টাস্কফোর্স ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সময় র‍্যাবের হাতে তদন্তের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের এই টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। যদিও শুরুতে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে নতুন এই তদন্ত নিয়ে জনমনে ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।