এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতেই পরীক্ষা দিতে হবে। এতে একটি বা দুটি বিষয়ে ফেল করার কারণে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের আওতায় এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন এমন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পেতে পারেন। তবে পুনঃপরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদনপ্রক্রিয়া ও পরীক্ষার বিস্তারিত নিয়ম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এ বছর মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এইচএসসিতে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন।
পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা, জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা এগিয়ে। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অর্থাৎ ছাত্রীদের চেয়ে ৬৪২ জন বেশি ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর
ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করতে হবে অনলাইনে। প্রতি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।
আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে: https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd। আবেদন করার সময় পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
দুই পত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন ও ফি পরিশোধের বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে।
এক বছর অপেক্ষার নিয়ম বদলানোর উদ্যোগ
বর্তমান নিয়মে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে সাধারণত পরবর্তী বছরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এতে একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এর আগে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলনেও বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন।
নতুন ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ফল উন্নত করার সুযোগ পাবেন। তবে পুনঃপরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও আবেদনবিধি প্রকাশের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা জানা যাবে।



