১১ দলের লংমার্চ শুরু, জাজিরায় শফিকুর রহমানের বক্তব্য
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা থেকে খুলনার পথে ১১ দলের লংমার্চ, জাজিরায় প্রথম পথসভা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে গাড়িবহরটি যাত্রা শুরু করে।

এর আগে সকাল ৭টা থেকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।

জাজিরার পথসভায় শফিকুর রহমানের বক্তব্য

লংমার্চের প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়। শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই তাঁরা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি সরকারকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান জামায়াত আমির।

এর আগে ঢাকার উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান। কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাত দফা দাবি

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. গণভোটের রায়ের আলোকে আইনি পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার।
২. দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি।
৩. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ।
৪. বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা।
৫. প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ।
৬. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।
৭. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গণহত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার সম্পন্ন করা।

উদ্বোধনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

খুলনায় বাবরী চত্বর ও ফুলতলায় পথসভা

আয়োজকদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট পেরিয়ে রূপসা সেতু দিয়ে খুলনায় প্রবেশ করবে গাড়িবহর।

খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ের বাবরী চত্বরে দুপুর সাড়ে ১২টায় পথসভা এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় আরেকটি পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, বাবরী চত্বরের পথসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভার কর্মসূচি রয়েছে। সবশেষে কুষ্টিয়ায় সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

৪১০ কিলোমিটারের লংমার্চ

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০০টি গাড়ি অংশ নিয়েছে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

এটি ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চ। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে কর্মসূচি পালন করে জোটটি।

লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। জনদুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।