ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনা: অরুণাচলে সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান, চাপে মোদি সরকার

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান, চাপে মোদি সরকার

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের একাধিক স্থানে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর। সাম্প্রতিক এই বক্তব্যের পর সীমান্ত পরিস্থিতি এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের নিরাপত্তানীতি নিয়ে ভারতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপি সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাপুর অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ও চীনা বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, এসব স্থানে পরিস্থিতি তখনো অব্যাহত ছিল। সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে আইটিবিপি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নতুন কমান্ডো ইউনিট গড়ে তুলছে।

টহল নিয়ে বিরোধের কথা জানাল ভারত

আইটিবিপি প্রধানের বক্তব্যের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চীনা বাহিনী প্রচলিত টহলপদ্ধতি থেকে সরে এলে ভারত-চীন সীমান্তের পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তিনি জানান, বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশ বিরোধ মেটানো এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহলে বাধা এবং চীনা বাহিনীর অগ্রসর হওয়া নিয়ে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থান করছে—এমন দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই ওই দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

গালওয়ান সংঘর্ষের পরও অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হন। পরে চীনও তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা জানায়। ওই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক আলোচনা হলেও সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) এবং সীমান্তের বিভিন্ন অংশের অবস্থান নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন ব্যাখ্যা। অরুণাচল প্রদেশকে চীন ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে; ভারত এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এ বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ।

আলোচনা চললেও উদ্বেগ কাটেনি

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট ভারত-চীন সীমান্তবিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থার (ডব্লিউএমসিসি) ৩৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখা এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে বিরোধ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানের খবর সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কাছে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ভারতের সরকার কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সীমান্তের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কী ঘটছে, মুখোমুখি অবস্থানের প্রকৃতি কী এবং দুই পক্ষের টহল কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। ফলে সীমান্ত বিরোধের কূটনৈতিক সমাধান এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।