আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে গত ছয় মাসে
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ, ব্যারেল ১১৭ ডলার ছাড়াল

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় বাজারে দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৭৬ সেন্ট বেড়ে ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে স্থির হয়। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ১১৮ ডলারে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বেড়ে ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়ায়।

অক্টোবর মাসজুড়ে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। মাস শেষে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহ উদ্বেগ

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল ঘিরে উত্তেজনা তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুক্রবার প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে ছোট নৌযান থেকে লাগানো বিস্ফোরক দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। হামলার পেছনে কারা ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে, অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করতে গিয়ে চারটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, কয়েকটি ট্যাংকার মাইনে আঘাত পেয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।