ঢাকা টেস্টে ১৩৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ,
দ্বিতীয় দিন শেষে
শাদমান ইসলামের শতকের পরও শেষ সাত উইকেটে মাত্র ৫৯ রান যোগ করে ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ। জবাবে জন ক্যাম্পবেলের অর্ধশতকে ১৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৩৮ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।
ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে শাদমান ইসলামের শতক এবং বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিক্যানের পাঁচ উইকেট ছিল উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স। তবে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২৭২ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।
শাদমানের শতক, দ্রুত ভাঙল বাংলাদেশের ইনিংস
প্রথম দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা শাদমান দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন। ২৩৪ বলের ইনিংসে ১১টি চার মেরে ১০৫ রান করে জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।
শাদমান ফেরার পর তাওহীদ হৃদয়ও আগের দিনের ৪২ রানেই থেমে যান। বিশপের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। প্রথম দিন পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয় দিনে ফিরে ব্যাট করেন হৃদয়।
এরপর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটিতে আসে ৩২ রান। তবে ১৫ রান করা মিরাজকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন ওয়ারিক্যান। পরে শামার জোসেফ পরপর নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারে ধস নামান। শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ওয়ারিক্যান।
বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৭২ রানে। লিটন দাস ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিক্যান ৫৩ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন। বিশপ ও জোসেফ পান দুটি করে উইকেট।
ক্যাম্পবেলের অর্ধশতকে লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
২৭৩ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্র্যান্ডন কিংকে ১৫ রানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাঁকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ।
এরপর জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল দলের ইনিংস এগিয়ে নেন। ক্যাম্পবেল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অর্ধশতক পূর্ণ করেন। মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান তিনি। চন্দরপল করেন ২১ রান।
পরে মিরাজ ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন। তাইজুল ইসলামও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অগ্রযাত্রায় বাধা দেন। দ্বিতীয় দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৪ রানে ৪ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের তুলনায় তারা পিছিয়ে ১৩৮ রানে।
তৃতীয় দিনে নজর বোলারদের দিকে
দ্বিতীয় দিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল শাদমানের ১০৫ রান এবং ওয়ারিক্যানের পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশের জন্য হতাশার বিষয়, একসময় ৩ উইকেটে ২১৩ রান থাকা সত্ত্বেও দলটি আড়াই শ রান পেরিয়ে খুব বেশি এগোতে পারেনি।
অন্যদিকে, চার উইকেট হারালেও ক্যাম্পবেলের অর্ধশতক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াইয়ে রেখেছে। তৃতীয় দিনে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে লিড বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দিনের খেলায় বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। আলোকস্বল্পতার কারণে চা বিরতিও নির্ধারিত সময়ের আগে শুরু হয়। বিরতির মধ্যে বৃষ্টি নামায় মাঠ খেলার উপযোগী করতে আরও সময় লাগে। প্রথম দিনেও বৃষ্টির কারণে প্রায় ৫০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।



