পূর্ণিমার জোয়ার ও নিম্নচাপে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত - জনবার্তা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পূর্ণিমার জোয়ার ও নিম্নচাপে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


আগস্ট ৩, ২০২৩ ১২:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পূর্ণিমার জোয়ার ও নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিভিন্ন এলাকার অন্তত সহস্রাধিক বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। এছাড়া ভারী বর্ষণে নদী-খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাগেরহাটের ভৈরব নদীর তীরে থাকা হাড়িখালি ও মাঝিডাঙ্গা এলাকার অন্তত ৩০টি বসত ঘর প্লাবিত হয়েছে। কারও কারও ঘরেও পানি উঠে গেছে।

এছাড়া মোরেলগঞ্জ উপজেলার নদীর তীরবর্তী ২৫ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা, বাড়িঘর, বেড়িবাঁধসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন হুমকির মুখে পড়েছে। শহর রক্ষাবাঁধসহ সন্ন্যাসী হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত নদীর দু’পাড়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপকূলীয় মেরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামসহ পৌরসভা গত দুদিন ধরে জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে পানগুছি নদীর তীরবর্তী মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা, বারইখালীর কাশ্মির, বলইবুনিয়ার শ্রেণিখালী, বহরবুনিয়ার ফুলহাতা, ঘষিয়াখালী ও মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামের নতুন করে আধা কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তা ধসে গেছে।

হোগলাবুনিয়ার বদনীভাঙ্গা, সানকিভাঙ্গা, পাঠামারা ও খাউলিয়া বাজারের ব্রিজসহ হুমকির মুখে আছে অম্বিকা চরণ লাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বদনীভাঙ্গা আর্দশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮০ নম্বর বি পাঠামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহরবুনিয়ার এসবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

এদিকে পঞ্চকরণের দেবরাজের পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১ হাজার ২০০ মিটার অস্থায়ী বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানগুছি নদীর ভাঙনের ফলে ফসলি জমি, বাড়িঘর গাছপালা বিলীন হয়ে নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার।

বারইখালী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান নান্নু, আবুল কালাম খোকন, পঞ্চকরণ গ্রামের জাহানারা আক্তার ও খুকি বেগম বলেন, জোয়ারের পানি ঢুকে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। চুলায় পানি উঠায় দুপুরের রান্না বিকেলে করতে হচ্ছে।

অপরদিকে মোরেলগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী লাল মিয়া, কাপড় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম শেখ বলেন, দুপুর ১২টা বাজলেই পানির চাপ বেড়ে দোকানে ঢুকে পড়ে পানি। ৩ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। গ্রাম থেকে আসা ক্রেতারা চলে যায় তড়িঘড়ি করে।

পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার জানান, শুধু শহর রক্ষাবাঁধ নয়, ইতিমধ্যে গাবতলা হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত স্থায়ী বেড়িবাঁধের ট্রেন্ডার হয়েছে। ২০১৭ সালে এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা হয়েছে। বাস্তবায়নের অপেক্ষায় শহরবাসী। বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হলে এই সমস্যায় থাকবে না।

অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা, বারইখালীর চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল খান মহারাজ, হোগলাবুনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরামুজ্জামান ও বহরবুনিয়ার চেয়ারম্যান রিপন হোসেন তালুকদার বলেন, গত দুই দিনের পানির চাপে নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলো অনেক কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেবরাজ পঞ্চকরণের অস্থায়ী বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে এক সপ্তাহ পানির চাপ থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে গ্রামবাসীরা।

বাগেরহাট জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, মোরেলগঞ্জ শহর সংলগ্ন রামপাল-মোংলা হয়ে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত ৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে পানগুছি নদীর ভাঙন হতে বাগেরহাট জেলা সদর সংলগ্ন এলাকা সংরক্ষণ এবং বিষখালী নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

০৫ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়ন ঘাটতির সতর্কতা, ক্যাম্পে মানবিক সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে

www.janobarta.bd |
https://www.facebook.com/Tanvir.Reza.Bappy